ভ্যাট, ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ও কোম্পানী অডিট সার্ভিস৷
কনসালটেন্ট মামুন, ০১৮১৮৭৫০৬৭৪
Bangladesh Tax & VAT Helpline
This is a consultancy service page. We are providing free consultation over phone.
19/08/2025
11/08/2025
নারী উদ্যোক্তাদের ভ্যাট মৌকুফ সংক্রান্ত আলোচনা।
Abdur Rouf sir
ভ্যাট টিপস-১১৬/২০২৪:
বিষয়: ভ্যাট অফিসার কর্তৃক ডকুমেন্ট সাইন করা সংক্রান্ত বিধান।
জনমনে ভ্যাট সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গতকাল আমরা এই বিষয় আলোচনা করেছিলাম। এরপর পাঠকদের নিকট থেকে অনেকগুলো মতামত পাওয়া গেছে। কয়েকটা মতামত নিম্নে উদ্ধৃত করলাম।
একজন পাঠক লিখেছেন, “জনগণকে সচেতন করে কি কাজ হয়? জনগণতো সহি স্বাক্ষর করাতে বাধ্য হন। তাই নয় কি?” এই মতামত দেখে মনে হয় যে, পাঠক হতাশ হয়ে গেছেন। তিনি মনে করেন যে, জনগণকে সচেতন করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ স্বাক্ষর করাতে বাধ্য হচ্ছেন। আমার মতামত হলো, সবাইতো স্বাক্ষর করাতে বাধ্য হন না। মূলত মফস্বলে এ ধরনের প্র্যাকটিস রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং তার আশে-পাশে এমন প্র্যাকটিস তেমন নেই। তাহলে আমরা বলতে পারি যে, জনগণ যদি সচেতন হন, তাহলে এই প্র্যাকটিস বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে, ইন-শা-আল্লাহ।
আর একজন পাঠক লিখেছেন, “Any law reference in VAT and SD Act, if online VAT return is submitted, no need to submit hard copy of Return. Sometimes ARO pressure us to submit hard copy otherwise ARO create unnecessary harrasment or create different issue even if no legal ground. Pls help me in this regard.”
এই মতামতে পাঠক রেফারেন্স চেয়েছেন। কোনো মাসের ভ্যাট দাখিলপত্র একবার দাখিল করতে হয়, দুইবার নয়। যদি একবার অনলাইনে দাখিল করা হয়, আবার হার্ডকপি দাখিল করা হয়, তাহলেতো দুইবার দাখিল করা হয়ে যায়। আইনের ধারা ৬৪তে উল্লেখ রয়েছে যে, দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। বিধি ৪৭ এ উল্লেখ রয়েছে যে, দাখিলপত্র কোথায় দাখিল করতে হবে। এখানে দুইবার রিটার্ন দাখিল করার উল্লেখ নেই। পাঠক আরো লিখেছেন যে, এআরও প্রেসার তৈরি করেন। এমন ঘটনা ঘটে না সেটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। তবে, এমন ঘটনা খুব বেশি ঘটে বলে আমার মনে হয় না। এমন হলে আপনি আরো সিনিয়র অফিসারের কাছে বলুন। এখন প্রায় সব জেলা শহরে ভ্যাট বিভাগীয় অফিস রয়েছে যেখানে সহকারী কমিশনার পর্যায়ের অফিসার বসেন। জেলা শহরে বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠন রয়েছে। তাই, এমন অন্যায় প্রেসার তৈরি করা সহজ নয় বলে আমি মনে করি। তাছাড়া, যাঁরা জানেন, কথা বলতে পারেন তাঁদের সহায়তা নিতে পারেন। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদধারী অনেক ভ্যাট কনসালট্যান্ট রয়েছেন, তাঁদের সহায়তা নিতে পারেন।
আপনাদেরকে দয়া করে এই প্র্যাকটিসগুলো করতে অনুরোধ করি। ট্রেজারি চালান ভ্যাট অফিস থেকে সাইন করিয়ে আনবেন না। ট্রেজারিতে ভ্যাট জমা দিয়ে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করুন। যদি হার্ডকপি রিটার্ন দাখিল করতে চান, তাহলে কয়েক দিন আগে জিইপি করে পাঠান। জিইপির রিসিপ্ট রেখে দিন। এটাই আপনার প্রমাণ। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে আবার হার্ড কপি জমা দেবেন না। সিস্টেম থেকে দেখে নিতে বলুন। তবে, আপনাদেরকে অনুরোধ করি, সঠিকভাবে হিসাবপত্র রাখুন এবং সঠিক পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করুন।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
০৬.০২.২০২৪
ভ্যাট টিপস-১১১/২০২৪
বিষয়: ১৫% ভ্যাট প্রদান করে রেয়াত নেয়া সুবিধাজনক।
জনমনে ভ্যাট সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা একটা বিষয় আলোচনা করবো, সেটা হলো, ১৫% ভ্যাট পরিশোধ করে রেয়াত নেয়া সুবিধাজনক। আপনারা জানেন যে, বর্তমানে ভ্যাটের হার মূলত ১৫%, ১০%, ৭.৫% এবং ৫%। অবশ্য আরো কয়েকটা হার রয়েছে। বিক্রির ওপর ১৫% ভ্যাট পরিশোধ করা হলে উপকরণের ওপর পরিশোধ করা ভ্যাট রেয়াত নেয়া যায়, অর্থাৎ ফেরৎ নেয়া যায়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ উপকরণের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করা থাকে, আর সে প্রতিষ্ঠান যদি বিক্রির ওপর ১৫% ভ্যাট প্রদান করে উপকরণের ওপর পরিশোধ করা ভ্যাট রেয়াত নেয়, তাহলে দেখা যায় যে, সবশেষে সে প্রতিষ্ঠানের নীট ভ্যাট ২% বা ৩% প্রদেয় হয় অর্থাৎ অনেক কম হয়। আর রেয়াত না নিয়ে ১০% বা ৭.৫% ভ্যাট পরিশোধ করা হলে অনেক বেশি ভ্যাট দিতে হয়। রেয়াত নিতে হলে হিসাবপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হয়।
ভ্যাট ব্যবস্থায় রেয়াত নেয়ার একই সুবিধা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। সব মানুষের পক্ষে সচেতন হওয়াও সম্ভব নয়। প্রফেশনালদের দায়িত্ব হলো, অন্যদেরকে সচেতন করা। আমাদের দেশে নানা কারণে যথেষ্ট সংখ্যক ভ্যাট প্রফেশনাল গড়ে ওঠেনি। প্রফেশনাল মূল্যবোধসম্পন্ন একটা সুসংগঠিত শ্রেণী গড়ে উঠলে, তখন সকলে আইনের সব সুবিধা নিতে পারবেন, সঠিকভাবে আইন পরিপালিত হবে, ইন-শা-আল্লাহ।
আজকে আমরা যা শিখলাম সেটা থেকে আমরা এখন চিন্তা করে দেখতে পারি যে, আমাদের বিক্রয়ের ওপর ১৫% ভ্যাট পরিশোধ করে উপকরণের ওপর পরিশোধ করা ভ্যাট রেয়াত নিলে নীট ভ্যাট কত হয়। এভাবে হিসাব করে আমরা নিজ নিজ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
ভ্যাট টিপস-১০৩/২০২৪
(কিছু পাঠকের অনুরোধে ভ্যাট টিপস-এর সিরিয়াল ২০২৩ এর পর থেকে কনটিনিউ করা হলো।)
বিষয়: পণ্যের খুচরা মূল্য বেশি লিখে ডিসকাউন্ট দেয়া সংক্রান্ত।
একজন পাঠক প্রশ্ন করেছেন যে, তারা ভ্যাট আইনের বিধান অনুসারে পণ্যের ঘোষণা (মূসক-৪.৩) দাখিল করে এবং ভ্যাট পরিশোধ করে পণ্য বিক্রি করে। তবে, তাদের বিক্রয় কৌশল হিসেবে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য পণ্যের গায়ে লিখে রাখে। কাস্টমারকে ডিসকাউন্ট দিয়ে তারা ঘোষিত মূল্যেই পণ্য বিক্রি করে। সম্প্রতি ভ্যাট অফিস থেকে বলা হয়েছে যে, পণ্যের গায়ে লেখা মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এই বিষয়টা কিভাবে সমাধান করা যেতে পারে?
ভ্যাট আইন অনুসারে পণ্যের ঘোষণা (মূসক-৪.৩) দাখিল করতে হয়। মূসক-৪.৩ ফরমে প্রতিটা উপকরণ ব্যবহারের পরিমাণ, মূল্য, মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হয়। ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ করে ঘোষিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হয়। তবে, বিক্রয় মূল্য ৭.৫% হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায়। বিক্রয় মূল্য ৭.৫% এর চেয়ে বেশি হ্রাস-বৃদ্ধি হলে পুনরায় ঘোষণা প্রদান করতে হয়। ভ্যাট বিভাগের কাছে মূসক-৪.৩ ফরমে যে ঘোষণা দাখিল করা হয়, সে মূল্য পণ্যের গায়ে লিখে রাখার কোনো বিধান নেই। পণ্যের গায়ে যে খুচরা মূল্য এবং উপাদান লেখা থাকে সেটা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং বিএসটিআই রুলস অনুসারে লেখা থাকে বলে জানি। শুধুমাত্র ৪টি পণ্যের ক্ষেত্রে এনবিআর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে যা পণ্যের গায়ে লেখা থাকতে হয়। সে ৪টি পণ্য হলো বিড়ি, সিগারেট, জর্দা ও গুল।
এই ৪টি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য যদি যথাযথভাবে ঘোষণা (মূসক-৪.৩) দাখিল করে, সে মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ করে বিক্রি করা হয়, তাহলে ভ্যাট আইনের লংঘন হয় না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং বিএসটিআই রুলস অনুসারে পণ্যের গায়ে মূল্য লেখার যে বিধান রয়েছে তা মেনে চলতে হবে। তবে, আমি সাধারণ জ্ঞানে যা বুঝি সেটা হলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের অর্থ হলো, এই মূল্যে বা এর চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করা যাবে। এর চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা যাবে না। তাই, আপনি যেহেতু পণ্যের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করছেন, সেহেতু কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভ্যাট আইনের ধারা ২ এর উপ-ধারা (৫৯) অনুসারে, ডিসকাউন্ট বাদ দিয়ে যে মূল্য থাকবে সে মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।
ভ্যাট অফিসের দায়িত্ব হলো, প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় করা। ঘোষণা যথাযথ আছে কিনা সেটা ভ্যাট অফিস যাচাই করতে পারে। আপনার বর্ণনামতে যে কারণে আপনি পণ্যের গায়ে বেশি মূল্য লিখেছেন সে কারণ যদি সঠিক হয়ে থাকে এবং তা যদি ভ্যাট অফিস বুঝতে পারে, তাহলে পণ্যের গায়ে লিখিত মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট প্রদান করতে বলা সমীচীন নয়। পণ্যের গায়ে বেশি মূল্য লেখা দেখে ভ্যাট অফিসার মনে করতে পারেন যে, পণ্য হয়তো বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তাঁকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে কনভিন্স করার দায়িত্ব আপনার। যাহোক, আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো, আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং বিএসটিআই রুলস অনুসারে যদি কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে ভ্যাট আইন অনুসারে এরূপ প্র্যাকটিসে কোনো সমস্যা নেই।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
ভ্যাট টিপস-০৯৮/২০২৩
বিষয়: নারী উদ্যোক্তার বাড়ি ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ বিষয়ে জটিলতা নিরসণ।
এসআরও নং-১৩৬-আইন/২০২৩/২১৩-মূসক, তারিখ: ২১ মে ২০২৩ এর টেবিল-৪ অনুসারে, নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসার শো-রুমের ভাড়া ভ্যাটমুক্ত। কিন্তু এ বিষয়টা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু প্রশ্ন আসে যার সঠিক উত্তর সাধারণত পাওয়া যায় না। তাই, অনেক নারী উদ্যোক্তা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। প্রশ্নগুলো হলো, যদি নারী উদ্যোক্তা পার্টনার হন, অর্থাৎ ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তার অংশ ধরুন ৪০%, ৫০% বা ৬০% হয়, তখন কি ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ হবে? আর একটা প্রশ্ন হলো, ব্যবসার শো-রুম বলতে কি বোঝায়? নারী উদ্যোক্তা সেবা প্রদানকারী হলে এই সুবিধা পাবেন কিনা। উল্লেখ্য, ভ্যাট ব্যবস্থায় মূলত উৎপাদনকারী, ট্রেডার এবং সেবা প্রদানকারী এই তিনভাগে উদ্যোক্তাদের বিভক্ত করা হয়েছে। উৎপাদনস্থল ভাড়া নেয়া হলে তা সবার ক্ষেত্রেই ভ্যাটমুক্ত। বাকি থাকে ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান। আজ আমরা এ বিষয়টা বিশ্লেষণ করবো, ইন-শা-আল্লাহ।
কাস্টমস আইনের অধীন জেনারেল রুলস ফর ইন্টারপ্রিটেশন (জিআইআর) এ এমন একটা বিধান রয়েছে যে, কোনো পণ্যের বেশিরভাগ অংশ যদি কোনো এক প্রকৃতির হয়, তাহলে সেই পণ্যটা সেই প্রকৃতি অনুসারে শ্রেণীবিন্যাস করতে হবে। ধরুন, একটা কাপড়ের ৭০% কটন আর ৩০% সিনথেটিক। এই কাপড়কে কটনের তৈরি বলে বিবেচনা করতে হবে। তাহলে একটা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশের মালিকানা যদি নারীর হয়, তাহলে স্বাভাবিক যুক্তিতে সেই প্রতিষ্ঠানকে নারী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
কেউ কেউ বলে থাকেন যে, নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসার শো-রুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। তাই, সেবাপ্রদানস্থল হলে ভ্যাট মওকুফ প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র ট্রেডিং এর শো-রুম হলে ভ্যাট মওকুফ প্রযোজ্য হবে। আমার মতে, এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। আমার মতে, এখানে “ব্যবসা” এবং “শো-রুম” শব্দসমূহ সাধারণ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট আইনে শো-রুমের সংজ্ঞা নেই। তাই, “শো-রুম” সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হবে। তৃতীয় তফসিলে “ব্যবসায়ী” এর সংজ্ঞা রয়েছে। তবে, আমাদের দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় সেবার ক্ষেত্রেও শো-রুম হতে পারে। আমাদের দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় “তৈরি পোশাক বিপণন” হলো একটা সেবা। এই সেবার সংজ্ঞায় উল্লেখ রয়েছে যে, নিজস্ব শো-রুম থেকে বিক্রি করা। অর্থাৎ সেবার ক্ষেত্রেও শো-রুম হতে পারে। শো-রুম এর সাধারণ অর্থ হলে যেখানে কোনো কিছু প্রদর্শণ করা হয় এবং বিক্রি করা হয়। তাই, ব্যবসার শো-রুম বলতে এখানে ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান উভয়কে বোঝানো হয়েছে বলে আমার অভিমত।
লেজিসলেটিভ ইনটেনশন বলে একটা কথা আছে। এই বিধান করা হয়েছে মূলত নারীদেরকে সুবিধা দেয়ার জন্য। যেহেতু নারীরা আমাদের সমাজে পিছিয়ে রয়েছে সেহেতু নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই সুবিধা দেয়া হয়েছে। যদি শুধুমাত্র শতভাগ নারীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা না পায়, এবং নারীর শতভাগ মালিকানার শো-রুম ছাড়া এই সুবিধা না পায়, তাহলে এই সুবিধা একেবারেই সীমিত হয়ে যায়। কারণ, শতভাগ নারীর মালিকানায় খুব কম প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে। যদি সেবা প্রদানকারী বাদ দেয়া হয়, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা কোনো সুবিধা হবে না যা ভোগ করার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। লেজিসলেটিভ ইনটেনশন এমন হতে পারে না। যদি ৫০% এর বেশি অংশ নারীর মালিকানায় হলে বাড়ি ভাড়া মওকুফের সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে পুরূষেরা নারীর সাথে অংশীদারী কারবার স্থাপন করতে উৎসাহী হবেন। এতে নারীর ক্ষমতায়ন হবে। লেজিসলেটিভ ইনটেনশন সম্ভবত এটা হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাগণ সাধারণত বিউটি পার্লার, বুটিক শপ, পোষাক, হস্তশিল্প ইত্যাদি কাজের সাথে জড়িত। এ কাজগুলো ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান উভয় ধরনের হয়ে থাকে।
তাই, নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসার শো-রুম বলতে ট্রেডিং প্লেস এবং সেবা প্রদানের স্থান উভয়কে বোঝাবে এবং ৫০% এর বেশি অংশ নারীর মালিকানাধীন হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলে আমার অভিমত। তবে, এ বিষয়ে রেগুলেটরী এজেন্সী যদি অন্যবিধ ব্যাখ্যা বা মতামত প্রদান করে তাহলে তা প্রাধান্য পাবে।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
45/2 East Hazipara Rampura
Dhaka
1219
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 21:00 |
| Tuesday | 08:00 - 21:00 |
| Wednesday | 08:00 - 21:00 |
| Thursday | 08:00 - 21:00 |
| Friday | 10:00 - 00:00 |
| Saturday | 08:00 - 21:00 |
| Sunday | 08:00 - 21:00 |